Live Love Laugh...
बंगालीमध्ये लेख | 01 जून, 2018 रोजी प्रकाशित

পুরুষ এবং মানসিক স্বাস্থ্য

Depression in Men

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা এখন ক্রমশই বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে যে আগামী দিনে ভারতে কমপক্ষে ১৩.৭ শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় কোনও না কোনও মানসিক অসুস্থতার শিকার হতে চলেছে। সাধারণভাবে মহিলাদের পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি কমন মেন্টাল ইলনেস (সাধারণ মানসিক সমস্যা) বা সিএমডি-তে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এই বিভেদের কারণ হিসেবে একদিকে যেমন থাকে হরমোন ও প্রাকৃতিক বা জৈবিক প্রভাব, তেমন অন্যদিকে রয়েছে আমাদের চারপাশের সংস্কৃতিগত কারণ। পুরুষদের মধ্যে সাধারণত তাদের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ ও চিহ্নগুলোকে অবহেলা এবং অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা যায়। আমাদের সমাজে একটা চিরাচরিত ধারণা হল পুরুষরা খুব “কঠিন-কঠোর” ও “শক্তিশালী” হয় এবং এই কারণেই অনেক সময়ে তাদের অন্য কারোর সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মেনে নেওয়া যে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই পুরুষরা যাতে প্রয়োজন মতো সাহায্য পায় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি।

এখানে এমন কয়েকটি মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার কথা আলোচনা করা হয়েছে যার প্রভাব পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে আলাদা ধরনের হয়।

  • মানসিক অবসাদ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার, মত অনুযায়ী, ভারতীয়দের ৪০ শতাংশের মধ্যে অল্প থেকে গুরুতর মানসিক অবসাদ দেখতে পাওয়া যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে অবসাদের প্রভাব প্রায়শই আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। কারণ অধিকাংশ পুরুষই এই সমস্যাকে তাদের দুর্বলতা বা পুরুষত্বের ব্যর্থতা বলে মনে করে থাকে। অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে অবসাদের বহিঃপ্রকাশের ফলে শরীরের পিছনের অংশ ব্যথা ও অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ার চিহ্ন ফুটে ওঠে। তাই এর চিকিৎসাও হয় বাহ্যিক লক্ষণগুলো দূর করার জন্য। কিন্তু মূল সমস্যা দূর করার জন্য তেমন চিকিৎসা হয় না। অবসাদের লক্ষণ হিসেবে পুরুষদের মধ্যে রাগ ও মনের খিটখিটে ভাব জেগে ওঠে। অবসাদের মোকাবিলা করার জন্য পুরুষরা অ্যালকোহল এবং ড্রাগের ব্যবহারও করে থাকে।
  • ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার (আইইডি): এটি একধরনের আচরণগত সমস্যা, যার বৈশিষ্ট্য হল ক্রোধ এবং হিংসাত্মক হয়ে ওঠা। সারা পৃথিবীতে ৭.৩ শতাংশ, মানুষ আইইডি-তে আক্রান্ত হয় এবং মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা, যেমন- মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদের চেয়ে একজন মানুষের মধ্যে আইইডি-তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি থাকে ও এর জন্য মানুষের আসক্তিগত সমস্যা তিনগুণ হয়ে দেখা দেয়।
  • অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি): ভারতীয় জনসংখ্যার ২ থেকে ৩ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এই সমস্যার প্রাথমিক পর্বে পুরুষদের মধ্যে সমস্যার লক্ষণ হিসেবে বেশি মাত্রায় অনুভূতি চেপে রাখা এবং যৌন ও ধর্মীয় বিষয়ে বদ্ধমূল ধারণা জন্মায়। এছাড়াও পুরুষদের মধ্যে সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে মনে ভয় দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই সমস্যার বহিঃপ্রকাশে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় ওসিডির মূল্যায়ন ও তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানুষের লিঙ্গ পরিচিতি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

Narcissist
  • অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি): এই সমস্যা মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে তিনগুণ বেশি দেখা যায়। সেই সঙ্গে এই সমস্যায় আক্রান্তের লক্ষণের ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। পৃথিবীর জনসংখ্যার ১ শতাংশ এই সমস্যার শিকার হয়। এই সমস্যার বৈশিষ্ট্য হল একজন মানুষের সঙ্গে অন্য আরেকজনের যোগাযোগগত ও আলাপ-আলোচনাগত জটিলতা, আগ্রহের সীমাবদ্ধতা ও বারবার একইরকম আচার-আচরণ করা। অন্যদিকে, এই সমস্যার ফলে ব্যক্তিমানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ব্যক্তিত্ব বিকার এই সমস্যার ফলে একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং আচরণ অন্যদের প্রত্যাশার থেকে আলাদা হয়। ফলাফল হিসেবে মানুষের জীবনে দুঃখ-দুর্দশা বাড়ে ও একনাগাড়ে এই সমস্যা চলতে থাকে। এমন কয়েকটি ব্যক্তিত্ব বিকার রয়েছে যা মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়-:
    • নারসিসসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (এনপিডি): ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টাল ডিসঅর্ডার (DSM- V) (ডিএসএম- ৫) অনুযায়ী, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই এনপিডি-তে বেশি আক্রান্ত হয়। এই সমস্যার বৈশিষ্ট্য হল একজন মানুষের মধ্যে নিজের সম্পর্কে গুরুত্বের বোধ বেড়ে যাওয়া, নিজের দিকে অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণের মাত্রা বাড়ানো এবং অন্য মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে অনীহা।
    • অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (এএসপিডি) মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা এই সমস্যার শিকার হয়ে থাকে। এর ফলে পুরুষদের আচরণে হিংসাত্মক অসামাজিক কার্যকলাপের প্রবণতা জাগে, তারা মারমুখী ও খিটখিটে হয়ে ওঠে। পুরুষদের চরিত্রে নৈতিক অধঃপতন ঘটে। তারা লাগাতার মিথ্যে কথা বলে ও অন্যকে ঠকানোর চেষ্টা করে এবং অন্যদের সঙ্গে ছলচাতুরি করে তারা অসম্ভব আনন্দ পায়। মোট জনসংখ্যার ১ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ এইধরনের ব্যক্তিত্ব বিকারে আক্রান্ত হয়।
    • স্কিৎজোটিপ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (এসপিডি) (SPD): জনসংখ্যার ৪ শতাংশের , মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। এসপিডি-র বহিঃপ্রকাশ পুরুষ ও মহিলার মধ্যে ভিন্ন রূপে ঘটতে দেখা যায়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এই সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে সংকুচিত ভাব লক্ষ করা যায়। এছাড়া তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, যা মহিলাদের আচরণে মধ্যে ফুটে ওঠে না। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যায় লক্ষণ হিসেবে সাধারণভাবে সামাজিক উদ্বেগ ও অদ্ভুত বিশ্বাস গড়ে উঠতে দেখা যায়।

এসব মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল আক্রান্ত মানুষের জন্য সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। উপরে আলোচিত অধিকাংশ সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধ ও থেরাপি- দুটোই খুব কার্যকরী হয়।


বর্তমানে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার চিকিৎসার বিষয়টি যথারীতি কলঙ্কজনক বলে বিবেচিত হয়। ৬০ শতাংশ মানুষই ভাবে যে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষদের নিজেদের জন্য একটি দল থাকা উচিত, যার সঙ্গে সুস্থ মানুষদের কোনও যোগাযোগ. থাকবে না। আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে পুরুষদের উপরে পড়ে এবং প্রত্যাশামতোই পুরুষরা তাদের মতো করে সমস্যার মোকাবিলা করে। যেহেতু মনে করা হয় যে পুরুষরা হল খুব কঠিন-কঠোর এবং তারা তাদের অনুভূতিগুলোকে খোলাখুলি প্রকাশ করতে পারে না সেহেতু তারা সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্যটুকু পায় না। যদিও এই সমস্যা পুরুষদের থেকে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় বলে মনে করা হলেও, একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি যে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবসময়েই অবহেলিত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও এমন অনেক সমস্যা রয়েছে, যেগুলো উপরে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়। যদি আমাদের মধ্যে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘটা সমস্যার গ্রহণযোগ্যতা ও বহিঃপ্রকাশের অনুভূতিকে যথাযথভাবে বিবেচনা করার মানসিকতা গড়ে না ওঠে তাহলে এইধরনের অসুস্থতার সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভবপর হবে না। যদি আমরা চাই যে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার বোঝা কমুক, তাহলে পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটাও আমাদের খতিয়ে দেখা শুরু করা জরুরি।


যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ উপরে আলোচিত সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনও একটি সমস্যার লক্ষণ দেখতে পান তাহলে তাঁর উচিত অবিলম্বে একজন মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা। নিজেদের অঞ্চলের মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে খবরাখবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।

X